অন্যান্য পৃষ্ঠা
আত্মজীবনী
মি জন্ম থেকে আজ অবধি দক্ষিণ কলকাতার বাসিন্দা।
Parents পিতা মাতা দুজনেই অসাধারণ মানুষ ছিলেন, কাজেই ছোটবেলাটা খুবই আনন্দে কেটেছে। আমার বাবার বিষয়ে আমি বিশেষভাবে গর্বিত। উনি শুধুমাত্র আন্তর্জাতিক স্তরের শিক্ষাবিদ, শিল্পপতি এবং সমাজসেবক'ই ছিলেন না, একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠক্রম (সিলেবাস) তো রচনা এবং সুষ্ঠু ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট তো করেইছেন, মানুষ হিসেবে অসাধারণ দয়ালু এবং পরোপকারী ছিলেন। সম্পূর্ণ নিজের চেষ্টায় এবং যোগ্যতায় উনি নিজের জায়গা করে নিয়েছিলেন। এমন নিঃস্বার্থ, পরোপকারী মানুষ আমি আজ পর্যন্ত আর একটিও দেখিনি। বিশ্বব্যাপী কাজকর্মের ফাঁকে ফাঁকেও কি করে উনি সময় বের করে এত পরোপকার করতেন, সেটা ভাবতে আমার আজও অবাক লাগে। এমনকি রোটারী ইন্টারন্যাশনালের মাধ্যমে উনি একটি গ্রামের উন্নয়নের দায়িত্ব নিয়েছিলেন এবং কোনো স্পন্সরের পরোয়া না করে ব্যক্তিগত খরচায় উন্নয়ন করে চলেছিলেন। আমি যতদূর জানি, সেই গ্রামে এখনও ওনার নামে উৎসর্গীকৃত একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং একটি ডিসপেনসারি রয়েছে।
আমার মায়ের গানবাজনা এবং অন্যান্য সাংস্কৃতিক দিকে অসামান্য প্রতিভা ছিলো। রান্নাবান্না এবং ঘরের কাজেও সমান পারদর্শী ছিলেন। আমার বাবার কেরিয়ারের উন্নতি এবং সংসারের ভালোর জন্যে নানারকম ত্যাগ স্বীকার করেছেন। আজকের সমাজের দিকে যখন তাকাই, স্পষ্ট বুঝতে পারি কতটাই অসাধারণ ছিলো আমাদের পরিবার।
সেইসব সোনালী দিনগুলি আজ একেবারেই হারিয়ে গেছে। ১৯৮৬ সালে ওনার অকালমৃত্যু হয়, এবং মাকেও হারাই ২০০৬-তে।
বাবার অকালমৃত্যুর পর আমরা নানাভাবে প্রতারিত হয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়ি। সম্পূর্ণ নিজের চেষ্টায় আমাকে সবকিছু আবার গড়ে তুলতে হয়েছে।
ছোটবেলা থেকেই নানা ধরণের জ্ঞানীগুণী মানুষদের সংস্পর্শে আমি এসেছি, যাঁদের মধ্যে আমার জীবনে সত্যজিৎ রায়, ভি.বালসারা এবং রাইচাঁদ বড়াল-এর অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
Quotation